ব্র্যাকইউ-এর অজানা গল্প: অদৃশ্য হাতের দৃশ্যমান পরিশ্রম
ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, পড়াশোনার ব্যস্ততায় চায়ের কাপে কিংবা বাড়ির চিন্তায় খাবার দাবারে বসে পেরিয়ে যায় কত ঘন্টা। কিন্তু দেখা হয় না জাদুর বশে কিভাবে এই ক্যাফেটেরিয়া থাকে পরিচ্ছন্ন। মনোযোগ দিলে আমরা দেখতে পেতাম, ঝাড়ু হাতে কিছু মানুষের ঘড়ির কাঁটার বিরুদ্ধে লড়াই- ছায়ায় থাকা এসব চরিত্রই আমাদের অদৃশ্য মানুষ।
মফিজুর ইসলাম এমনই একজন অদৃশ্য মানুষ। ছয়তলার পরিচ্ছনতাকর্মীদের মধ্যে মফিজুরই সবচেয়ে অভিজ্ঞ, যিনি ব্র্যাকে আছেন দুই বছর ধরে। মাসের প্রতিদিন মফিজুর আসেন সকাল ৭ টায়, এবং বাড়ি যান ক্যাম্পাসের শেষ শিক্ষার্থী যাওয়ারও পরে। দুই সন্তানের বাবা মফিজুর থাকেন বাড্ডায় স্ত্রীর সাথে, যিনি নিজেও ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় তলায় কাজ করেন। এমনিতে সবাই মফিজুরের সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করেন। তবে ঈদে সালামির কোনো আভাস না পেলে তা যে খানিকটা হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এ কথা তিনি রসিকতার সুরেই স্বীকার করেন।
এদিকে মোহাম্মদ শাহ আলম ঢাকায় একা। মাদ্রাসায় পড়া দুই সন্তান এবং স্ত্রী থাকেন হবিগঞ্জে। প্রতিদিন রাতে খালি বাসায় ফেরার সময় শাহ আলমের চিন্তা একটাই- কিভাবে নিজের সব আয় পরিবারের কাছে পাঠানো যায়।
মোহাম্মদ রনি খাবার দাবারের সাথে আছেন এক বছরেরও বেশি সময়। বাবার সাথে থাকেন ঢাকায়, সদ্য বিবাহিত রনি সপ্তাহে একদিন পরিবারকে দেখার সুযোগ পান কিশোরগঞ্জ গিয়ে। সেখানকারই এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়ছেন হিসাববিজ্ঞান। সারাদিন খাবার দাবারে কাজের পড়ে বাসায় গিয়ে করেন অনলাইন ক্লাস- রনি আশা করেন আর দুই বছরে স্নাতক পাশ করার।



খাবার দাবারের আরেকজন পুরনো কর্মচারী রাবেয়া আক্তার। রাবেয়ার পরিষ্কার করার কাজ সহজ মনে হলেও তার লড়াই তার মতই অদৃশ্য। রাবেয়ার দ্বিতীয় এবং নবম শ্রেণি পড়ুয়া দুই সন্তান থাকে তারই বাবা-মায়ের সাথে, যাদের সবার ব্যয় রাবেয়া একাই বহন করেন। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাবেয়া একবারই সুযোগ পান সন্তানদের ভিডিও কলে দেখার, শিক্ষার্থীদের ছুটি হলেই শুধু তার ছুটি।
ক্যাম্পাসের বহু অজানা গল্পের এই শুধু চারটি উদাহরণ। তারা থাকেন আমাদের মাঝেই, কিন্তু তাদের আলাদা অস্তিত্ব বোঝা বেশ কঠিন। অদৃশ্য মানুষদের লড়াইগুলো সাধারণত আমাদের চেতনার বাইরেই থাকে, কিন্তু একটু খুঁজলেই বেরিয়ে আসে সেসব কাহিনী।
