ব্র্যাকইউ-এর অজানা গল্প: পরিচ্ছন্নতার নীরব রক্ষক
সকাল থেকে সন্ধ্যা, ক্যাম্পাস যখন নিস্তব্ধ, এমন সময়েও থামেনা তাদের কাজ। সেই বেসিন মোছা থেকে শুরু করে ডাস্টবিন পরিষ্কার করে প্রতিটা মহুূর্তেই তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে চলেছেন। আর এই পরিশ্রমের ছাপ ফুটে ওঠে জীবাণুনাশকের মৃদু সুবাস আর ঝকঝকে মেঝেতে। অথচ এতকিছুর পরেও তাদের এই হাড়ভাঙা খাটুনি রয়ে যায় পর্দার আড়ালে। পরিশ্রমের আর একাগ্রতার এই গল্প আধারে চাপা পরলেও তার প্রতিফলন বেশ স্বগর্বেই দাপিয়ে বেড়ায়, যা প্রশংসনীয়। গল্পটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচর্যাকর্মীদের।
নমিতা রায় বিগত এক বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতায় অবদান রেখে চলেছেন, বিশেষত টয়লেট এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফাকা জায়গায়। তার এই কাজ আরম্ভ হয় ভোর ৭টায় আর চলে রাত নয়টা-দশটা অব্দি। এভাবেই তার খাটুনি চলে দিন-রাত পেরিয়ে মাসের পর মাস। এমনকি ছুটির দিনগুলিতেও নেই একরত্তি বিশ্রামের সুযোগ। এই দৈনিক ১২-১৩ ঘন্টার কঠোর পরিশ্রমের পরেও সেই সুযোগ নেই নমিতার। বাসায়ে ছেলে রয়েছে যে মায়ের হাতের রান্নার অপেক্ষায়।

আরেক দিকে চার তলার ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোহাম্মদ খোকা বাড়িতে স্ত্রীকে ফেলে একা ঢাকায় থাকেন। তারও কঠিন রুটিন। মেঝে ঝাড়ামোছা আর সিংক সাফ করে নিশ্চিত করে চলেছেন ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা। এত কাজের মাঝেও একাকিত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাজ তো কাজই। আর আমি একেবারে একা না আমার স্ত্রী প্রায় সময়েই ফোন দেয়, আমি খেয়েছি কিনা জিজ্ঞাসা করে। তাছাড়া সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করতে ভালই লাগে।”

তাছাড়াও আছেন ক্যাম্পাসের পুরোনো মুখ শিরিন বেগম। স্বামীর মৃত্যু কাজে কিছুটা ভাটা ফেললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে মুখে হাসি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা নিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন তিনি। উপচে পরা ডাস্টবিন থেকে পরে যাওয়া টিস্যু, অপরিচ্ছন্ন মেঝে কিছুই যেন নাজেহাল করতে পারেনা তাকে। আর এভাবেই অভিজ্ঞতার জাদুতে গুরুত্ব রক্ষা করে চলেছেন ক্যাম্পাসের।

আরও আছেন ছয় মাসেই সুনিপুন পরিচ্ছন্নতার কারিগর মোহাম্মদ দীন ইসলাম। যিনি শ্বাসকষ্টের জন্য ফার্নিচার শো-রুমের চাকরি ছেড়ে প্রতিবেশির কথায় পারি দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এভাবেই কর্মজীবনের নতুন শুরুটা করেন আরেকটু স্বাস্থসম্মত পরিবেশে, ছোট্ট এক স্বপ্ন নিয়ে, স্বল্প ভুলে যেন কাজের পুরষ্কার থেকে বঞ্চিত না হন। তাদের কাজও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কাজের মতই শ্রমসাধ্য।

নীরবচেতা এই গল্পগুলো সমদ্রেুর জলের কয়েকটা ফোটা মাত্র, যা বরাবরের মতো আড়ালেই থেকে যায়। আমরা একরকম ভুলেই যাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা আরেকটু সহজ আর সুন্দর করার পেছনে তাদের অবদানের গল্প, যা প্রশংসা আর তালির দাবি রাখে।

